কোরআন মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক

শাহ মাহমুদ হাসান।। কোরআন মানবজাতির মুক্তির একমাত্র সনদ। কোরআন ছাড়া মানুষের মুক্তির কোন পথ নেই। কোরআন গোটা মানবজাতির মর্যাদা ও সম্মানের প্রতিক। কোরাআন এমন এক পবিত্র ও মহা গ্রন্থ যা নির্ভূল আসমানি জ্ঞানে সমৃদ্ধ। এর রচয়িতা হচ্ছেন এমন একজন মহা জ্ঞানী যিনি সমস্ত তথ্য, তত্ব ও নির্ভূল জ্ঞানে অধিকারী। এ মহা গ্রন্থে কোন সন্দেহ সংশয়ের অবকাশই নেই। আল্লাহ তায়ালার ইরশাদ, ‘এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই।’ সূরা বাকারা, আয়াত ১। আবার কোরআন হেফাজতের নিশ্চয়তা দিতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।’ সূরা হিজর, আয়াত ৯। কোরআন অবমাননার সাধ্য কারো নেই। আবার কেউ ইচ্ছা করলেই কোরআনকে ধ্বংস করে দিতে পারবে না। এ ব্যাপারেও আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়তা দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তারা মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ তাঁর আলোকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে। সূরা সাফফাত, আয়াত ৮।

কোরাআনের সত্যতা প্রমানের জন্য আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীবাসীকে এই বলে চ্যালেঞ্জ করেছেন যে, ‘এই কিতাব স¤পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।’ সূরা বাকারা, আয়াত ২৩। চৌদ্দশ বছর পূর্বে দেয়া চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে গিয়ে এই পৃথিবীর মানুষ বিজ্ঞান ও কম্পিউটারপউটার পর্যন্ত গবেষণা করে করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আজো কেউ প্রমাণ করতে পারেনি যে, কোরআন আল্লাহর কিতাব নয়। মহা গ্রন্থ আল কোরআন মহান রাব্বুল আলামিনের পবিত্র ও সম্মাণিত কিতাব। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় এটা সম্মাণিত কোরআন।’ সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত ৭৭। তাই ঈমানদারগণ এই কিতাবের প্রতি সর্বোচ্চ ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে এটাই ঈমানের দাবী। আল্লাহ তায়ালার ইরশাদ, ‘এটা শ্রবণযোগ্য কেউ আল্লাহর নামযুক্ত বস্তুসমুহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে তা তার হৃদয়ের আল্লাহভীতি প্রসূত।’ সূরা হাজ্জ, আয়াত ৩২।
কোরআন হচ্ছে মুসলমানদের অহংকার ও সম্মানের প্রতীক। এ মহা গ্রন্থ মুসলমানদের জন্য বড় নেয়ামত ও শ্রেষ্ঠ সম্পদ। কোরআনের কারণেই মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান যে নিজে কোরআন শিখে এবং অন্যদেরকে তা শিখায়।’ বুখারি, হা/৪৭৩৯। কুরআনের অনুসারী ও বন্ধু যারা তারা হিরো আর কোরআনের বিরোধী ও শত্রু যারা তারা জিরো। কোরআনের শত্রুদের ধ্বংস পতন অনিবার্য।  রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘এই কোরআনের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বহু জাতির উত্থান ঘটান এবং তাদেরকে উচ্চমর্যাদা দান করেন আবার এ কিতাবের অবজ্ঞা ও অবমাননার কারণে বহু জাতির পতন ঘটান।’ মুসলিম, হা/১৯৩৪। কুরআনের শিক্ষা ছাড়া মুসলমানের আলাদা কোন বিশষত্ব, মর্যাদা ও মূল্য নেই। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তির দেহে কুরআনের কোন অংশ নেই সে একটি পরিত্যাক্ত বিরান ঘরের মত।’ তিরমিজি, হা/২৯১৩। যার মাঝে কোন কল্যান নেই। সে দেহ অমঙ্গল ও অশুভ জিনেসের আশ্রয়কেন্দ্র।

হাশরের ময়দানে কোরআন পাঠকের ব্যপারে কোরআনকে সুপারিশ করা ক্ষমতা প্রদান করা হবে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা কোরআন পাঠ করবে; কারণ কোরআন কিয়ামতের দিন তার পাঠকের জন্য শশাফাআত করবে।’ মুসলিম, হা/১৯১০। কোরআন তখনই বান্দার জন্য সুপারিশ করবে, যখন সে তার সুপারিশ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে। এই সুপারিশ পাবার যোগ্যতা হলো কোরআনের মর্যাদা রক্ষা করে কোরআন অনুযায়ী জীবন-যাপনের চেষ্টা করা।

শেয়ার করুন

Leave a Comment