জান্নাত লাভের তিন আমল

রসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতের জন্য কিছু সহজ আমল দিয়েছেন যা আমল করলে মৃত্যুর পরপরই জান্নাত লাভ করা যায়।

এখন এমন ৩টি আমলের কথা উল্লেখ করা হবে যা আমল করলে জান্নাতে যাওয়ার পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না। আর তাহলো-

১. সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত ‘সাইয়েদুল ইসতেগফার’ পড়া।

সাইয়েদুল ইসতেগফার আল্লাহর এত চমৎকার প্রশংসা ও খালেস তওবার ভাষা দিয়ে ভরপুর যে, যদি কেউ নিজের গোনাহ মাফের জন্য অনুতপ্ত হৃদয়ে এই বাক্য মালার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চায়; আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেন। হাদিসে এসেছে- কেউ যদি আন্তরিক বিশ্বাসের সঙ্গে সকাল ও সন্ধ্যায় সাইয়েদুল ইস্তেগফার পড়ব, আর সেদিন সে মারা যায়, তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় সে জান্নাতে যাবে। (বুখারি)

সাইয়েদুল ইস্তেগফার হলো:

أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া কোনো প্রভু নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার বান্দা। আমি সাধ্যমত তোমার কাছে দেয়া ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতিগুলো পালনে সচেষ্ট আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমাকে যে নেয়ামত দান করেছ, তা স্বীকার করছি এবং আমি আমার পাপগুলো স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া কেউ ক্ষমাকারী নেই।’

২. প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ‘আয়াতুল কুরসি’ পড়া।

রসুল সা. বলেছেন, সূরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, যে ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে। (মুসতাদরাকে হাকিম)।

আয়াতুল কুরসি হল সুরা বাকারার ২৫৫ নাম্বার আয়াত:

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

উচ্চারণ: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বিয়্যুম লা তা’খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিছছামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াস ফায়ু ইন দাহু ইল্লা বি ইজনিহি ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খল ফাহুম ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি ইল্লা বিমা সাআ ওয়াসিয়া কুরসিইউ হুস ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যূল আজীম।

অর্থ : আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।’

প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর কুরআনুল কারিমের মর্যাদাপূর্ণ আয়াত ‘আয়াতুল কুরসি’ পাঠ করলে বান্দার মাঝে আর জান্নাতের মাঝে মৃত্যু ছাড়া আর কোন বাঁধা থাকেনা। অর্থাৎ যারা ফরজ নামাজ যথাযথভাবে আদায় করবে এবং নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে তারা সরাসরি আল্লাহর জান্নাতের মেহমান হয়ে যাবে।

হাদিসের মধ্যে এসেছে,

যে ব্যক্তি প্রতি ফরয নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছু বাধা হবে না। (নাসায়ী)। সে মৃত্যুবরণ করছেনা বলেই (কবরে) জান্নাতের নেয়ামতগুলো উপভোগ করতে পারছেনা।

অন্য হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসী নিয়মিত পড়ে, তার জান্নাত প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় হয়ে আছে। যে ব্যক্তি এ আয়াতটি বিছানায় শয়নের সময় পড়বে আল্লাহ তার ঘরে,প্রতিবেশির ঘরে এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন। (বায়হাকী)।

৩. প্রতিদিন ‘সূরা মুলক’ পাঠ করা।

‘সূরা মুলক’ হলো ২৯তম পারার প্রথম সুরা। এ সুরাটি প্রতিদিন এশার নামাজের পরে ঘুমের আগে একবার পড়লে আমল করীর জন্য জান্নাত সুনিশ্চিত।

সূরাটির নিয়মিত পাঠকারীকে কবরের আজাব থেকে আল্লাহ তায়ালা সুরক্ষা দিবেন। কেয়ামতের দিন সূরা মুলক তার তেলাওয়াতকারীকে সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে নিয়মিত এই তিনটি আমল করে জান্নাত লাভের তাওফিক দান করুন।

শেয়ার করুন

Leave a Comment