রোজার তাৎপর্য

শুধু না খেলেই রোজা হয় না

রাসূলে কারীম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রোযা রাখার পরও মিথ্যা বলা ও খারাপ কাজ করা থেকে বিরত থাকে না তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।’ (বুখারী : ১৯০৩)।
জৈবিক তাড়না থেকে মানুষকে বিরত রাখার জন্যই রোযার বিধান রাখা হয়েছে। আর এই রোযার সার্থকতা তখনই অর্জিত হবে যখন পেটের মত চোখ, কান সহ প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও অনুভূতির সিয়াম পালন করা হবে। অর্থাৎ হারাম কাজ থেকে বিরত রেখে ঐসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও অনুভূতিকে তাদের জন্য নির্ধারিত ইবাদতে ব্যাস্ত রাখাই হলো রোযার লক্ষ্য।
রোযার আসল উদ্দেশ্যই হচ্ছে বান্দাকে গুনাহ মুক্ত জীবন যাপনে অভ্যস্ত করে তাকে মুত্তাকী হিসেবে গড়ে তোলা। এব্যাপারে আল্লাহ তায়ালার ইরশাদ, ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।’ (সূরা বাকারা : ১৮৩)। রমযান মাসে পানাহার থেকে বিরত থাকার পেছনে যদি তাকওয়া অর্জিত না হয় তাহলে এই রোযা শুধু দৈহিক রোযাই হবে, দেহের বাইরে এই রোযার আলাদা কোনো তাৎপর্যই থাকবে না।
কাম, ক্রোধ, লোভ-লালসা ইত্যাদি রিপুর তাড়নায় মানুষ যখন দিশেহারা ও বিপথগামী হয়ে ধ্বংসের মুখোমুখি হয়; তখন রোযা মানুষের এসব কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রনের শক্তি যোগায়। এ কারণেই রাসূলে কারীম (সা.) বলেছেন, ‘রোযা প্রবৃত্তির তাড়না থেকে বাঁচার জন্য ঢাল এর মাধ্যমে বান্দা আগুন থেকে মুক্তি পায়।’ (মুসনাদে আহমাদ : ১৫২৬৪)।
তাই রোযার ফজিলত পেতে হলে ক্ষুধা-তৃষ্ণার বাইরে সকল প্রকার খারাপ কাজ থেকেও আত্মরক্ষা করতে হবে। পঞ্চেন্দ্রিয়কে সংযত রাখতে হবে। তা হলেই প্রকৃত রোযাদার হিসেবে পরিগণিত হওয়া যাবে।
সর্বোপরি রমজান এমন একটি কর্মশালা যেখানে রোযাদারকে সুনাগরিক বানানোর জন্য দেওয়া হয় বহুবিধ প্রশিক্ষণ। বাস্তব জীবনে কীভাবে নিজেকে সংশোধন করবে, কীভাবে আল্লাহর হুকুমের প্রতি আস্থাশীল হবে, কীভাবে হারাম থেকে নিজেকে বাচিয়ে রাখবে ইত্যাদি প্রশিক্ষণ এ মাসে পাওয়া যায়। সামাজিক জীবনে চলমান অশান্তি এবং অস্থিরতা দূর করতে হলে পরিবর্তন আনতে হবে মানুষের মানসিকতায়। আর রমজানের শিক্ষাই পারে মানুষের অন্তর জগতের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাতে। মানুষের চরিত্র ও মানসিকতায় পরিচ্ছন্নতা ও দৃঢ়তা সৃষ্টিতে রমজানের শিক্ষার বিকল্প নাই। রমজানের শিক্ষা বাস্তবায়ন করা গেলে যেনা-বেভিচার ও ধর্ষনের হাত থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। তাই তো যুবসমাজ কে সম্বোধন করে রাসূলে কারীম ইরশাদ করেন, ‘হে যুবকেরা! যে সামর্থ রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা তা দৃষ্টিকে সংরক্ষণ করে এবং যৌনাঙ্গের হিফাজত করে। যে বিবাহের সামর্থ রাখে না সে যেন সিয়াম পালন করে। কেননা এটি তার জন্য সুরক্ষা।’ (বুখারী : ১৮০৬)।
সিয়াম সাধনায় আত্মনিয়োগের মাধ্যমে মোমিন বান্দারা আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযম অর্জন করার এক সুবর্ণ সুযোগ লাভ করে এবং আধ্যাত্মিকভাবে নিজেদের গঠন করতে সক্ষম হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Comment