হজের ফজিলত সমতুল্য কিছু আমল

শাহ মাহমুদ হাসান

 

আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবানদের জন্য হজের ফরজ বিধান প্রযোজ্য। হজের ফজিলতের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকে, সে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়।’ (বুখারি : ১৪৪৯)। আর জান্নাতই হচ্ছে মকবুল হজের একমাত্র পুরস্কার।’ (বুখারি : ১৬৮৩)। তবে যাদের হজ করার সামর্থ্য নেই, ইসলাম তাদেরকেও বঞ্চিত করেনি; বরং তাদের জন্যও রেখেছে হজের ফজিলত পাবার বিভিন্ন আমল। যেমন
নামাজের পরেই আল্লাহর জিকির করা : একবার কিছু দরিদ্র লোক রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে বললেন, সম্পদশালী ব্যক্তিরা বেশি সওয়াবের অধিকারী হয়ে জান্নাত নিয়ে যাচ্ছে! আমদের মতো তারাও নামাজ পড়ে! আমাদের মতো তারাও রোজা রাখে! উপরন্তু তাদের রয়েছে অতিরিক্ত সম্পদ; ফলে তারা হজ ও ওমরাহ করতে পারে, জিহাদে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং দান-সদকাও দিতে পারে! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন একটি আমল শিখিয়ে দেব না; যা করলে তোমরা অগ্রগামীদের স্তরে পৌঁছে যাবে এবং যারা তোমাদের পেছনে তারাও পারবে না তোমাদের স্তরে পৌঁছতে। তোমরা হবে সবার সেরা, তবে অন্য কেউ এই আমল করলে সেও তোমাদের স্তরে পৌঁছে যাবে। আমলটি হলো, প্রত্যেক নামাজের পর তেত্রিশবার করে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার পাঠ করবে।’ (বুখারি : ৮০৭)
মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের ঘর থেকে উত্তমরূপে অজু করে ফরজ নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয়, সে ইহরাম বেঁধে হজে গমনকারীর মতো সওয়াব লাভ করে।’ (আবু দাউদ : ৫৫৮)। রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে ফরজ নামাজ আদায় করল, সে যেন হজ করে আসল। আর যে ব্যক্তি নফল নামাজ আদায় করতে মসজিদে গেল, সে যেন ওমরাহ করে আসল।’ (তাবারানি : ৭৫৭৮)
ইশরাকের নামাজ আদায় করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায়ের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে আল্লাহর জিকির করল, এরপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করল, সে ব্যক্তি একটি হজ ও ওমরাহর পরিপূর্ণ সওয়াব পেল।’ (তিরমিজি : ৫৮৬)
ইলম শেখার উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি মসজিদে ইলম শিখা বা শিখানোর উদ্দেশ্যে যাবে, সে পরিপূর্ণরূপে হজ আদায়কারীর সমতুল্য সওয়াব লাভ করবে।’ (তাবারানি : ৭৪৭৩)
পিতা-মাতার খেদমত করা : একবার জনৈক ব্যক্তি রাসুলুুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে বললেন, আমি জিহাদে অংশ নিতে চাই, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নেই। তখন রাসুলুুল্লাহ (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমার মাতা-পিতার কেউ কি জীবিত আছেন?’ লোকটি বললেন, আমার মা জীবিত। তখন রাসুলুুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তাহলে মায়ের খেদমত করতে থাক এবং আল্লাহর নিকট জেহাদে যেতে না পারার অপারগতা প্রকাশ কর। এভাবে যদি করতে থাক এবং তোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন তাহলে তুমি হজ, ওমরাহ এবং জেহাদের সওয়াব পেয়ে যাবে।’ (মাজমাউজ জাওয়াইদ : ১৩৩৯৯)
মানবসেবা করা : ইসলামে বিপন্ন মানবতার সেবায় এগিয়ে আসার জোর তাকিদ দেওয়া হয়েছে। নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত শুধুমাত্র ইবাদত নয়, বরং অসহায় মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা করা, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করে মানব সেবায় নিয়োজিত থাকাও আল্লাহর ইবাদাত বলে স্বীকৃত। এ ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মাবরুর হজ হলো খাদ্য খাওয়ানো এবং সুন্দর কথা বা ভালো আচরণ করা।’ (কানজুল উম্মাল : ১১৮৮১)। অতএব যারা হজে যেতে পারেনি তারা বাংলাদেশে বসেও অসহায় মানুষের সেবা করে, খাবার দিয়েÑ কবুল হজের সাওয়াব পেতে পারি।

শেয়ার করুন

Leave a Comment